অনেকদিন পর আজ ঘর থেকে বের হলাম। পুরনো বন্ধুদের সান্নিধ্য, খুব চেনা নির্জন গ্রামের পিচ ঢালা রাস্তা, বিদায়ী শীতের নিস্তব্ধ রাত, আকাশে ছাড়া ছাড়া মেঘ আর বিচ্ছিন্ন কিছু তারার ফ্যাকাসে আলো- বেশ ভালো লাগছে, বহুদিন পর আপন জায়গায় ফিরে আসলে যেমন লাগে আর কি। মনে হয় অমাবস্যা চলছে, চাঁদের দেখা নাই। রাস্তার দুই পাশে ঘন গাছের সারি। যতদূর চোখ যায় শুধু ক্ষেত আর ক্ষেত। নির্জন পথে হাটঁতে হাঁটতে এগিয়ে যাচ্ছি। কেমন যেন লাগছে, ট্রলার দিয়ে নদী পার করার সময় আপন খেয়ালে হারিয়ে যাচ্ছিলাম বারবার। আমার সময় শেষ হয়ে আসছে… তাড়াতাড়ি সব গুছিয়ে ফেলতে হবে। চলে যেতে হবে অনেক দূর…
ঔ দাঁড়া। পা ব্যাথা করতেসে। একটু বসি, বলে একটা কালভার্টের রেলিং এ রাজিব বসে পরল।
আমিঃ ক্ষেত গুলা এত অন্ধকার কেন? আজকাল ক্ষেতের পাম্প হাউসে কেউ বোধ হয় ৬০ ওয়াটের ল্যাম্প জ্বালায় না, নাকি কারেন্ট ই নাই???
রিয়াদঃ বালের আবার কারেন্ট।
জবাব দিতে ইচ্ছা করল না। অন্যসময় হলে গালাগালি করে সরকার বিরোধী কিছু বক্তব্য দিতাম হয়ত। বাকিরা ও একদম চুপ মেরে আছে আজকে। আবার চারিদিকে সব চুপ হয়ে গেল। যা যার চিন্তায় ডুবে গেলাম। গাড় অন্ধকারে শুধু ৩টা বেনসন থেমে থেমে জ্বলে উঠছে। আমিও সাথে থেকে প্যাসিভ স্মোকিং করছি আর ভাবছি এমন ও সময় ছিল তামাকের গন্ধে গা গুলাতো, আর এখন এই কড়া গন্ধটা বেশ ভালই লাগে। সিগারেট খেতে গিয়ে কবে যেন আব্বুর হাতে ধোলাই খেলাম…?
…সালেহীন ভাই। আশিকের ডাকে তন্দ্রা ভেঙে গেল।
আমিঃ হু!!
আশিকঃ ভাই আপনার ভবিষ্যতবানী ঠিক হয়ে গেল।
আমিঃ অবাক হয়ে বললাম, কিসের ভবিষ্যতবানী??? !!!
আশিকঃ আপনি আমাকে নিয়া যে ভবিষ্যতবানী করসিলেন সেটা ফলে গেসে।
আশিকের গলায় কেমন যেন বেদনার সুর টের পেলাম। বুঝলাম খারাপ কিছু হয়েছে, কিন্তু ধরতে পারলাম না। আজকাল আমার কিছুই মনে থাকে না।
আমিঃ কি হইসে বল।
আশিকঃ লাকাপিপি তো খায়া গেলাম।
আমিঃ শালা ভনিতা না কইরা কি হইসে খুইলা বল।
আশিকঃ ফারিয়া আমারে লাকাপিপি দিসে।
আমিঃ কোন ফারিয়া?
আশিকঃ ভাই !!! ঐ যে, জার্মানী।
আমিঃ শিট… আশিক। dass die deutschen Mädchenditched Sie? [That German girl ditched you?] হাহাহাহাহা।। মজা পাইলাম। গুড ফর ইউ। বাঁইচ্চা গেলি।
আশিকঃ ভাই, এভাবে বইলেন না। আমি ওরে খুব ভালোবাসতাম। আমার ট্রু লাভ ছিল। অন্য কোন মেয়ের জন্য আমি এমন ফিল করি নাই। খুব খারাপ লাগতেসে। ও কি কারনে স্বম্পর্ক টা শেষ করল সেটাও বলে গেল না। এটার জন্যই আরো বেশী খারাপ লাগতেসে।
আমিঃ খারাপ লাগার কি আসে? আজিব।
আশিকঃ ভাই খারাপ লাগব না?? তিন বছরের প্রেম।আমি ১০০% কমিটেড ছিলাম, ওর জন্য সব কিছু করতে রাজী ছিলাম আমি। ও আমার ট্রু লাভ ছিল।
আমিঃ বালের লাভ ছিল। এর আগে কয়বার ট্রু লাভ করসোস ??
আশিকঃ ভাই সিরিয়াসলি। আমি জীবনে অনেক ফাইজলামি করসি, অনেকের সাথেই আমার রিলেশন ছিল। কিন্তু অনেস্টলি বলতেসি এটার আগে আরো তিন জনকে আমি ভালোবেসে ফেলসিলাম।
আমিঃ হাহাহাহা। মাত্র তিনজন। গুড গুড। তোর কি মনে হয় একবার একজনকে ভালোবেসে ফেললে পরবর্তীতে আরেকজনকে ভালোবাসা যায়?
আশিকঃ কেন যাবে না? আমি বিশ্বাস করি ট্রু লাভ অনেকের সাথেই করা যায়। যারা ছেড়ে চলে যায় যাওয়ার সময় ভালোবাসা তো ফেরত দিয়েই যায়।
আমিঃ হাহাহাহা। কঠিন ডায়লগ। রিফান্ডেবল ভালোবাসা।হাহাহা… ছ্যাকা খাইলেই মানুষ এমন কঠিন ডায়লগ ছাড়তে পারে। আমরা শালা একটা পাইনা আর তুই চার চার বার ট্রু লাভ কইরা ফেললি?? তা তোর ট্রু লাভের কাহিনী গুলি শুনি…কেমনে কি হইল।
………………………………………………………………………………………
আসল কাহিনীর শুরু আসলে এখান থেকে। এখন আমরা তিনটি গোপন প্রেম কাহিনী পড়ব। একজন টিনেজ ছেলের মনে চলতে থাকা প্রেম-ভালোবাসা বিষয়ক চিত্র গুলো বুঝার চেষ্টা করব।
……………………………………………………………………………………..
[ট্রু লাভঃ আনিকার হাতে হাতেখড়ি]
তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। ইংলিস পড়তে একটা ব্যাচে যেতাম। লেখাপড়া করতাম না। রেজাল্ট খারাপ করতাম। সবার সামনে স্যার খুব পঁচাইত। আনিকা কেন জানি আমাকে একদম দেখতে পারত না। লেখাপড়া নিয়ে অনেক বাজে ভাবে আমাকে পঁচাইত। খোটা দিত। খুব খারাপ লাগত আমার। কিন্তু আমি তার কিছুই জবাব দিতাম না। শুধু চুপ করে ওর দিকে তাকায় থাকতাম। একদিন ওর সেলফ রিয়েলাইজেশন হয়। আস্তে আস্তে আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করে। আমারো তাকে ভালো লেগে যায়।
এভাবে কিছুদিন চলার পর একদিন আমাকে বলে চল বাসায় গিয়ে লেখাপড়া করি। আজকে কেউ নাই। [আহেম] … এভাবে প্রায় প্রতিদিন আমরা লেখাপড়া করতাম। ওর মা-বাবা চাকরি করত। খালি বাসায় ওর খারাপ লাগত। বন্ধুর মত ওকে তখন সঙ্গ দিতাম। সারাদিন ওর কথা ভাবতাম।
[মাঝখান দিয়ে রাজিব ফুট কাটল, সঙ্গ দিতে দিতে সঙ্গম করোস নাই?]
আশিকঃ তাওবা তাওবা। আমি ভালো পোলা ভাই। হাল্কা ফুল্কা কিস টিস, হাত ধরে স্বপ্ন দেখা, বাচ্চা-কাচ্চার নাম ঠিক করা এই পর্যন্তই ছিলাম।
রিয়াদঃ আগে বার জলদি, টাইম নাই
…এভাবে প্রায় এক বছর আমরা গ্রুপ স্টাডি করলাম। একদিন ওর মা অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসে আর আমাকে ঘরে আবিস্কার করে। আমার ১৪ গুস্টির নাম ঠিকানা নিল সেদিন।
প্রথম কয়েকদিন খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম। বাসায় ভদ্র ছেলের মত লেখাপড়া করতাম। একদিন আমার বাপ আইসা জিজ্ঞাস করল আনিকা নামের কোন মেয়েকে চিনি কিনা? ওর বাসায় যাইতাম কিনা? কইলাম হা যাইতাম। অস্বীকার কইরা কোন লাভ হইত না। দেন কইল, ঠিক আসে। যা হওয়ার হইসে। আর যাইস না। এরপর আমি টিভি দেখতে বইসা গেলাম। আর বাপ-মা লাগল ঝগড়া। তুমি ছেলেটারে নস্ট কইরা ফেলতাসো। বাপ কয়, এই বয়সে একটু আধটু করবেই। আমিও করতাম।
এরপর একদিন ওর সাথে আমার ব্যাচে দেখা। জিজ্ঞাস করলাম কেমন আছ? কইল ওর মা সেদিন বেডমিন্টনের ব্যাট দিয়ে পিটাইসে। আবার যদি আমার সাথে কথা বলে তাহলে ওর বিয়ে দিবে। মার খায়া ঐ মাইয়া এখন আর আমারে চিনে না। এই হইল ওর ট্রু লাভ। অনেকদিন আনিকাকে আমার মনে আগলে রাখসিলাম। অনেক বুঝানোর চেষ্টা করসি। অনেক মিস করতাম আনিকাকে। কিন্তু দিপা আপু এসে সব পালটে দিল।
[ট্রু লাভঃ দিপা আপুর ছলনা]
আমি তখন মাত্র কলেজে ভর্তি হইসি। আনিকার দেয়া ক্ষত তখনো শুকায় নাই। বাপ নতুন একটা মোবাইল কিনে দিল।কিন্তু তখন আমার বন্ধু-বান্ধবের কাছে মোবাইল ছিল না। ঠিক তেমন একটা সময়ে দিপা আপু আমার জীবনে এন্ট্রি মারল। উনি তখন ভিএনসি সেকন্ড ইয়ারে পড়ত। আমার বাপের কাছে ব্যাচে পড়তে আসত। সেখানেই পরিচয়। আমার হাতে একদিন মোবাইল দেখে আমার নাম্বার নিয়ে যায়। তারপর প্রায়ই রাতে কল দিতেন। আমি কম দিতাম। আস্তে আস্তে আমাদের কথাবার্তা রোমান্টিক দিকে টার্ন নিয়ে নিলো। এটা কিভাবে হল আমি বুঝতেই পারলাম না। অনেক মেসেজ দিতাম। উনি অভয় দিতেন, বয়স কোন ব্যাপার না। আমার বাসায় সবাই মেনে নিবে। আমরা মাঝে মাঝে ঘুরতে যেতাম। নান্দুজ এ খেতে যেতাম। রিক্সায় ঘন হয়ে বসতাম। একদিন উনি আমাকে বাসায় নিয়ে গেল।
……। এইটুকু বলেই আশিক চুপ হয়ে গেল। আমরা তখন আগ্রহ নিয়ে বসে আছি কিছু রিয়েল লাইফ ইরোটিক স্টোরি শুনতে পারব। আজকাল তো আর rmg পড়া হয় না। এরপর কি হইসে বল।
আশিকঃ ভাই, আমাকে রেপ করসে।
হাহাহাহা…আমরা সবাই রেলিং থেকে নীচে পরে গেলাম। রিয়াদের ঠোঁট থেকে সিগারেট পরে গেল খালের পানিতে।
আশিকঃ নেন ভাই মজা নেন। কেমন লাগসে সেটা শুধু আমিই বুঝি। এত ভয় পাইসিলাম যে কি বলব? কয়েকদিন ঘুমাইতে পারতাম না। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিসিলাম, কারো সাথে কথা বলতাম না।শামুকের মত নিজেকে গুটায় নিসিলাম। উনার ফোন রিসিভ করতাম না। ভয় লাগত… ভয়ংকর ভালোবাসা।
এরপর আমার জীবনে আসে হৃদিতা।
শিট। এটাই বাকি ছিল।
কেন ভাই? কি হইল?
কিছু না। এতক্ষন আমি ভাবতে ছিলাম হৃদি বা হৃদিতা নামের কেউ এন্ট্রি মারল না কেন? এমন গল্পে শতকরা ৫০ ভাগ নায়িকার নাম হৃদি/হৃদিতা থাকে।
[এই স্ট্যাটিসটিকস সম্পূর্ন আমার নিজের শোনা কিছু সত্যি গল্পের আলোকে তৈরী। বাস্তবতার সাথে এর মিল খুঁজতে যাওয়া বোকামি। বিশেষ করে একা'র প্রেমিকার নাম ও যেখানে হৃদি]।
যাক খুশি লাগছে হৃদিতার এন্ট্রি দেখে। ক্যারি অন বয়…পরিচয় হল কিভাবে?
বাপের কাছে পড়তে আসত।
ওরে খাইসে। তারপর?
মাঝে মাঝেই চোখাচোখি হত। এরপর হঠাত্ একদিন আননোন নাম্বার থেকে একটা মেয়ে ফোন করে। আপনি খুব ভাল, হ্যান্ডসাম, আপনার অনেক কথা আমি জানি…হ্যান ত্যান। প্রায়ই এভাবে ফোন দিয়ে গ্যাজাতো।
তার কিছুদিন পর জানতে পারলাম ফোনের মেয়েটা আসলে সেই। আব্বুর মোবাইল থেকে আমার নাম্বর নিয়েছিল।
বাব্বা চরম ডেসপারেট মেয়ে দেখা যাচ্ছে। দেখতে কেমন ছিল?
ভাই আর বইলেন না। একদম ফুটফুটে পরীর মত। ওকে দেখলেই আদর করতে ইচ্ছা করত। হাসলেই গালে একটা গভীর টোল পরত, ভাই পুরা মাথা নষ্ট।
তার কিছুদিন পর ফার্স্ট ডেটিং এ যাই।চলন্ত রিকশায় খুব সাহস করে ওর একটা হাত ধরে প্রপোজ করি…
হৃদি কি বলল?
লাজুক হাসি দিয়ে বলে, আমি তো তোমারই।
আমার বাসাতেই বেশীর ভাগ সময় ডেটিং করতাম। বাইরে যাওয়ার তেমন দরকার পরত না।
বাসায় ডেটিং করতি মানে কি?
আব্বুর কাছে পড়ত আসত না? ওদের ব্যাচ শুরু হত বিকাল ৪টায়। ও অনেক আগে আগেই চলে আসত। তখন আমরা….
তখন তোরা কি করতি? স্যার কই থাকত?
আপনাদের স্যার তখন নাক ডাকত।
তোর বাপ একটা মাল, জন্ম ও দিল একটা মাল রে। তারপর..
এমনই একদিন বৃষ্টির দুপুরে ও আগেই বাসায় চলে আসে। ও সোফায় বসে ছিল। আব্বু তখন পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছে। বৃষ্টির ছাটে ও হালকা ভিজে গিয়েছিল। ও কে দেখেই আমার মাথা গরম হয়ে গেল।খুব ধীরে ওর ডান হাত টা আমার হাতে নিলাম। আস্তে করে ঠোঁট ছোঁয়ালাম। তারপর পাগলের মত চুমু দিতে দিতে তাকে সোফায় শুইয়ে দিলাম। ও আবেশে শক্ত করে আমাকে জাপটে ধরে ছিল।
ভাই থাম থাম। তোর এই গল্প লিখতে গেলে তো চটি হয়ে যাবে। আমার ১৮- পাঠক ও আছে।
নারে ভাই তেমন কিছুই করি নাই।
সোফায় শোয়ায় ফেললি, আবার কথা বলস।
কি এমন করলাম বলেন? শুধু লিপ কিস করেছিলাম আর ওর ঘাড়ে মুখ গুঁজে ছিলাম। এই তো।
আচ্ছা বুঝছি, এখন সামনে বাড়।
মাঝে মাঝেই ও আমাকে গিফট দিত। আসার সময় সিড়িতে গিফট টা রেখে আমাকে কর দিত। আমি সেটা কালেক্ট করে নিতাম।
এভাবেই চলল কয়েকদিন। হঠাত্ করে ওর ব্যবহার কেমন যেন পাল্টে যেতে লাগল।সেক্সের ব্যপারে ও অনেক এগ্রেসিভ হয়ে গেল। সেই সময়ে হৃদির বাসায় কি একটা প্রবলেম চলছিল। হঠাত্ একদিন কল দিয়ে বলে আশিক তুমি আমাকে কতটুকু ভালবাসো সেটার প্রমান দিতে হবে ? আমি সব ছেড়ে তোমার বাসায় চলে আসছি।
আমি একদম বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। মেয়ে বলে কি? ওকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলাম।
দেখো আমরা এখন অনেক ছোট। পড়ালেখা ও শেষ হয়নি। মাথা গরম কর না। একটু ঠান্ডা মাথায় ভাব। কি হয়েছে খুলে বল আমাকে।
ঠিক আছে তোমার বাসায় না জায়গা হলে আমাকে নিয়ে পালিয়ে যাও। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। প্লিজ…
ওকে অনেক কষ্ট করে বুঝিয়ে সেদিন ওর বাসায় দিয়ে আসছিলাম।সেদিন থেকে তার সাথে আমার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কল দিলে কল ধরত না। একদিন মোবাইল ই বন্ধ হয়ে গেল। আমি পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলাম। তার কিছুদিন পর ওর এক বান্ধবীর কাছ থেকে শুনি হৃদি কোন এক মোটর মেকানিকের সাথে বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
ভাই এটা শুনে আমি পুরা থ। কি বলব কি করব কিছু বুঝতে পারছিলাম না। অজানা রকমের এক কষ্ট বুকে চেপে বসে ছিল। কয়েকদিন কিছুই খেতে পারিনি। ওর কথা মনে পড়লেই খুব কষ্ট হত। ও কেন আমার সাথে এমন করল ভাই আপনারাই বলেন?
আমি কি এতই খারাপ ছিলাম।
তুই খারাপ ছিলা না চান্দু। তোমার দোষ তুমি বাঘের সামনে নর মাংস নিয়া তু তু করছো। ওরে খাইতে দাও নাই। শেষ পর্যন্ত মোটর ম্যাকানিক। হাহাহাহাহাহা…আর হাসতে পারতেসি না হাহাহাহা।
হাসেন হাসেন। মানুষের কষ্ট নিয়া তো হাসবেনই।
তুই মন খারাপ করিস না আশিক, চালায়া যা। তোর কাহিনী শেষ হয় নাই?
না ভাই আর একটু বাকী আছে।
তাড়াতাড়ি শেষ কর। রাত বার টা বাজল প্রায়। এরপর তো নিজের বাড়িতে চোরের মত ঢোকা লাগবে।
হৃদিকে ভুলতে আমি ভার্চুয়াল লাইফে খুব একটিভ হয়ে পড়ি। সারাদিন রাত ফেসবুক ইয়াহু হটমেইল এ পড়ে থাকতাম। তখন আমার অনেক ফ্রেন্ড হয়ে যায়। ডিজিটাল যুগের কল্যানে আমার জীবনে আসে ফারিয়াল আসিফ।
ফারিয়াল …হাহাহাহা। শিট শিট শিট। আমাদের সাথে পড়ত একটা মেয়ের নাম ফারিয়াল। আমাদের স্কুল জীবনের ত্রাস। দজ্জাল বেটি।
একে পাইলি কিভাবে?
ভাই রেন্ডমলি এড করেছিলাম।
তুই ফেসবুকে মেয়েদের রেন্ডম এড পাঠাস?
যার প্রো পিক দেখলে মনে ঘন্টি বাঁজে তাদের পাঠাই।
শালার…..আমার ফ্রেন্ডের মধ্যে কাউকে যদি এড করসোস…তোর খবর ই আছে। এখন শেষ কর…।
ও পাকিস্তানি মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই জামার্নিতে স্যাটেলড। প্রথম প্রথম টুকটাক চ্যাট করতাম। এরপর কবে যে নেশার মত হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। দুজনের মধ্যেই একটা কিছু হচ্ছিল। আমরা একজন আরেকজনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরলাম। ও আমাকে প্রতিদিন কল করত। খেয়েছি কিনা, দিন কেমন গেল এসব খবর নিতে ঘন ঘন টেক্সট করত। আমার প্রতি ওর কেয়ার দেখে আস্তে আস্তে আমিও ওর প্রতি দূর্বল হয়ে গেলাম। ওকে ছাড়া কিছুই ভালো লাগত না। আমার পড়ালেখা লাটে উঠে গেল। কিভাবে জামার্নি যাব তখন সেই চিন্তা মাথায়। জার্মান ভাষা শিখতে কোর্সে ভর্তি হলাম। দিন রাত তখন ওদের ভাষা শিখতাম। ফারিয়াল ও অনেক হেল্প করত। উত্সাহ দিত। তাড়াতাড়ি চলে আসতে বলত। জার্মানিতে গিয়ে কি করব, ফারিয়ালকে প্রথম যেদিন দেখব তখন কি করব, কিভাবে তার সাথে আগামী দিনগুলো কাটাবো জেগে জেগেই স্বপ্ন দেখতাম। আমাদের প্রেম ছিল নির্মল ও পবিত্র।
বাচ্চা-কাচ্চার নাম ঠিক করোস নাই? নির্মল আর পবিত্র প্রেম যারা করে তারা সবার আগে বাচ্চার নাম ঠিক করে।
নারে ভাই।
আচ্ছা শেষ কর।
এভাবেই ফারিয়ালের সাথে স্বপ্নের মত সময় গুলো কেটে যাচ্ছিলো। পাক্কা তিন বছর আমরা প্রেম করি। আমার কোর্স ও তখন শেষের দিকে। বন ইউনিতে ভর্তির ব্যবস্থা ও ঠিকঠাক। কয়েক মাস পরেই আমি যাচ্ছি আমার স্বপ্নের কাছে। ঠিক তেমন সময় ফেসবুকে ও একটা মেসেজ দিয়ে বলে- আমাদের মধ্যে কোন কিছু সম্ভব না। আমাকে ভুলে যাও। আমি একাউন্ট ডিএকটিভেট করে দিচ্ছি। আমার সাথে কনট্যাক্ট করার কোন ধরনের চেষ্টা করো না।
ব্যাস এখানেই আমার জীবন শেষ। মুহুর্তেই আমার চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। সব স্বপ্ন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
ফারিয়াল আমার জীবন থেকে চলে যাবার পর আমি উপলব্ধি করি এটাই আসলে আমার ট্রু লাভ ছিল। বাকি গুলো ভুংভাং ছিল। এটাই আমার ফার্স্ট এন্ড লাস্ট ট্রু লাভ একই সাথে এটাই আমার ফার্স্ট এন্ড লাস্ট ট্রু ছ্যাকা। ভাই ফারিয়ালকে আমি অসম্ভব ভালোবাসতাম। ও কেন আমার সাথে এমন করল?
অসম্ভব ভালোবাসতি দেখেই তোরে মূলা ধরায় দিল। সম্ভব ভালোবাসলে ওকে পাওয়া টাও সম্ভব হত।
[ফারিয়ালের এই গল্পটায় লেখকের খানিকটা ভূমিকা আছে। ফারিয়ালের শেষ মেসেজ টা আসার প্রায় মাস দুয়েক আগে লেখকের সাথে আশিকের দেখা হয়েছিল। তখন কথায় কথায় লেখক একটি ভবিষ্যতবানী করেন এভাবে- এত ফাল পারতাসোস কেন রে? তোর ভাগ্যে জার্মানি লেখা নাই। জার্মান মাইয়া ও লেখা নাই। আর কয়েকদিনের মধ্যেই তুই চরম রকমের একটা ছ্যাকা খাবি। ফারিয়ালেয় ফ ও পাবি না। আমি বলে দিলাম। আজকের দিন তারিখ দিয়ে খাতায় লিখে রাখ। বড় ভাইয়ের কথা শুন। এখনো সময় আছে ভালো হয়ে যা। লেখাপড়া কর। জার্মানি যাওয়ার ভূত নামা মাথা থেকে।
তার কয়েকদিন পর লেখক ফারিয়ালের সাথে আশিকের ট্রু ব্রেক আপের কথা শুনে অনেক ব্যাথিত হন]
……
মানুষের জীবন এভাবে কেটে যায়। কখনো সুখ আবার কখনো দুঃখ। জীবন কারো জন্যই থেমে থাকে না। জীবনের স্রোত তার নিজ গতিতে বহমান থাকে।
এই তো কালকেই ওর সাথে আবার দেখা। চোখে মুখে আবার সেই চকচকে ভাব। নিশ্চিত শালা আবার প্রেমে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম আসলেই তাই। নারায়নগঞ্জ থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুনীর সাথে পরিচয়। ধীরে ধীরে ফ্রেন্ডশিপ….
আমি একটু মুচকি হাসলাম। আশিক ম্লান হেসে বলে, জীবনে ভাই একজনকেই ভালবাসছি। আমার পক্ষে কোন মেয়েকে আর প্রেম করা সম্ভব না। আমি কিছুতেই ফারিয়ালকে আমার জীবন থেকে মুছে ফেলতে পারব না।
তাই এর সাথে কি? একে কেন কষ্ট দিবি?
ভাই ওকে আমার সব কথা বলে দিসি। ওর মনে খুব দুঃখ। আমি শুধু সার্পোট দিয়ে যাচ্ছি। ও প্রানপন চেষ্টা করছে আমার মনকে ভুলানোর। আমি সব বুঝতে পারি। কিন্তু মন থেকে সেই টান টা আর আসে না। মন খারাপ করে চলে গেল হেঁটে হেঁটে….
[দুমার উপদেশ বানীঃ আশিক তুমি আর একটা ভুল করে যাচ্ছো। এবার তুমি আরো বড় ধরনের কষ্ট পাবা। একে বলা হয় রিবাউন্ড (Rebound) ছ্যাকা। তুমি একদিন একে ছ্যাকা দিবা। কিন্তু ছ্যাকা টা বুমেরাং এর মত আবার তোমার কাছেই ফেরত আসবে। তখন অনেক কষ্ট পাবা তুমি। লিখে রাখ আমার কথা। মেয়েটাকে কষ্ট দিস না। এখনো টাইম আসে]
[ডিসক্লেইমারঃ ঘটনা পুরাই সত্য, হাল্কার উপর ঝাপসা মডিফায়েড। গল্পের পুরুষ চরিত্রগুলোর নাম কাল্পনিক, নিজের সুবিধার্থে কাছের কয়েকজনের নাম ব্যবহার করা। ভাষা স্বাভাবিক কারনেই বেশ সংযত করে লিখা হয়েছে। অনেক গালিগালাজ ও কথপোকথন অহেতুক অশ্লীল মনে হওয়ায় আর লিখি নাই, যার যার রুচি অনুযায়ী জায়গা মত আপনারা বসিয়ে নিবেন এতটুকু আমার বিশ্বাস আছে ]